ঢাকা ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত, ৬ জন নিহত Logo নোয়াখালীর পুকুরে মিলল অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ Logo  অসুস্থ মির্জা আব্বাসকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী Logo ১৯ রানের ব্যবধানে পাকিস্তানের তিন উইকেট হারাল Logo ইরানি শাসকদের হত্যাকে ‘সম্মানের’ বলে মন্তব্য ট্রাম্পের Logo হাসপাতালে মির্জা আব্বাসকে দেখতে গেলেন ডা. শফিকুর রহমান Logo নতুন মন্ত্রিসভায় ২ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর বণ্টন, গেজেট প্রকাশ Logo স্বৈরাচারের সমর্থক কেউ নেই, এটাই বর্তমান সংসদের সৌন্দর্য: পার্থ  Logo ফ্যাসিবাদের অবসান, নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের শুরু: সংসদে রাষ্ট্রপতি Logo সংসদে ওয়াকআউটের পর ফেসবুকে হাসনাতের ‘গেট আউট চুপ্পু’ মন্তব্য

একুশে ফেব্রুয়ারি: বাঙালির শোক ও গৌরবের চিরঅমর ইতিহাস

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির ইতিহাসে শোক ও গৌরবের এক চির অমল অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয়। এই দিনটি শুধু দেশের সীমানায় নয়, আন্তর্জাতিকভাবে মাতৃভাষার অধিকারের প্রতীক হিসেবে সম্মানিত। ভাষার দাবিতে নিজের রক্ত উৎসর্গ করে যে প্রতিবাদ গড়ে ওঠে, তা বিশ্বে অনন্য নজির। ভাষাবিদরা মনে করান, মাতৃভাষা ও দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা বাড়ানো প্রয়োজন এবং বিদেশে দেশত্যাগের প্রবণতা কমাতে হবে।

 

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ বহু শিক্ষার্থী বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি নিয়ে শহীদ হন। ১৯৪৮ সালে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করলে বাঙালির মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র করে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৪৪ ধারা ভেঙে ছাত্ররা রাজপথে নামেন, পুলিশ গুলি চালালে তরুণরা শহীদ হন।

 

ভাষা আন্দোলন শুধু ভাষার দাবি নয়, এটি আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক অধিকারের লড়াই। তাই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ভাষা সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বাংলা একাডেমির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, “বাংলার প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে; উচ্চশিক্ষিত ও ধনী বাঙালিরা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন। যখন এ ধরনের ধারা লক্ষ্য করা যায়, ভাষার উন্নতি বাধাগ্রস্ত হয়।”

 

তিনি আরও বলেন, রাজনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা ও অফিস-আদালতে বাংলা ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে ভাষার অবস্থাও শক্তিশালী হবে। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। তখন থেকে দিনটি বিশ্বজুড়ে ভাষাগত বৈচিত্র্য ও মাতৃভাষার অধিকারের প্রতীক হয়ে উঠেছে। শহীদদের আত্মত্যাগ শ্রদ্ধা ও মাতৃভাষার সংরক্ষণে প্রতিফলিত হলে প্রকৃতভাবে তাদের রক্তের ঋণ শোধ হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১১:০৫:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
২৪ বার পড়া হয়েছে

একুশে ফেব্রুয়ারি: বাঙালির শোক ও গৌরবের চিরঅমর ইতিহাস

আপডেট সময় ১১:০৫:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির ইতিহাসে শোক ও গৌরবের এক চির অমল অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয়। এই দিনটি শুধু দেশের সীমানায় নয়, আন্তর্জাতিকভাবে মাতৃভাষার অধিকারের প্রতীক হিসেবে সম্মানিত। ভাষার দাবিতে নিজের রক্ত উৎসর্গ করে যে প্রতিবাদ গড়ে ওঠে, তা বিশ্বে অনন্য নজির। ভাষাবিদরা মনে করান, মাতৃভাষা ও দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা বাড়ানো প্রয়োজন এবং বিদেশে দেশত্যাগের প্রবণতা কমাতে হবে।

 

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ বহু শিক্ষার্থী বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি নিয়ে শহীদ হন। ১৯৪৮ সালে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করলে বাঙালির মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র করে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৪৪ ধারা ভেঙে ছাত্ররা রাজপথে নামেন, পুলিশ গুলি চালালে তরুণরা শহীদ হন।

 

ভাষা আন্দোলন শুধু ভাষার দাবি নয়, এটি আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক অধিকারের লড়াই। তাই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ভাষা সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বাংলা একাডেমির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, “বাংলার প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে; উচ্চশিক্ষিত ও ধনী বাঙালিরা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন। যখন এ ধরনের ধারা লক্ষ্য করা যায়, ভাষার উন্নতি বাধাগ্রস্ত হয়।”

 

তিনি আরও বলেন, রাজনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা ও অফিস-আদালতে বাংলা ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে ভাষার অবস্থাও শক্তিশালী হবে। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। তখন থেকে দিনটি বিশ্বজুড়ে ভাষাগত বৈচিত্র্য ও মাতৃভাষার অধিকারের প্রতীক হয়ে উঠেছে। শহীদদের আত্মত্যাগ শ্রদ্ধা ও মাতৃভাষার সংরক্ষণে প্রতিফলিত হলে প্রকৃতভাবে তাদের রক্তের ঋণ শোধ হবে।