ঢাকা ০২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে শাকিরা ও বার্না বয়ের থিম সং ‘দাই দাই’ Logo পটুয়াখালীতে বন্ধ ঘর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, রুমমেট পলাতক Logo বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থী হত্যার সন্দেহভাজন আবুঘরবেহ তিন বছর আগে মাকেও মারধর করেছিলেন Logo সংসদে নিজেকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করলেন জামায়াত নেতা তাহের Logo সাকিবের পাশাপাশি মাশরাফি ও দুর্জয়কেও আলোচনায় আনতে বললেন তামিম Logo বিএনপির প্রতি আস্থা হারাচ্ছি: সংসদে নাহিদ ইসলামের মন্তব্য Logo নিপীড়নের আশঙ্কা জানালে ভিসা নয়—যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতি Logo ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ৪ টাকা বৃদ্ধি Logo ট্রাম্পকে ‘রাজার খোঁচা’ দিলেন ব্রিটিশ চার্লস, ফরাসি ভাষা নিয়ে ব্যঙ্গ Logo ডে-কেয়ারে হাত-পা বেঁধে রাখা ৫০ শিশু, নেশাদ্রব্য প্রয়োগের অভিযোগে তোলপাড়

গত ১০ বছরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের প্রাণহানি ২৪, আহত ৩৮৬

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

 

গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় একটি কেমিক্যাল গোডাউনে বিস্ফোরণের পর আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের চার সদস্য দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে শামীম আহমেদ (৪০) নামের একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাঁর শরীর শতভাগ দগ্ধ হয়েছিল। এছাড়া, এক ব্যক্তির ১০০ শতাংশ এবং অন্য একের ৪২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, দুজনেরই অবস্থা গুরুতর।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত দশ বছরে অপারেশন চলাকালীন ২৩ জন ফায়ার সার্ভিস কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। টঙ্গীর এই দুর্ঘটনায় শামীমের মৃত্যু যুক্ত হয়ে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ জনে। একই সময়ে, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ৩৮৬ জন ফায়ার সার্ভিস কর্মী আহত হয়েছেন।

১৯৮১ সালের ৯ এপ্রিল ফায়ার সার্ভিস, সিভিল ডিফেন্স এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের উদ্ধার পরিদফতরের সংমিশ্রণে বর্তমান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে ৪৬ জন ফায়ার সার্ভিস কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া, ১৯৬৬, ১৯৭১ ও ১৯৭৩ সালে আরও তিনজন কর্মীর মৃত্যু ঘটেছে।

মৃত ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন ৩৫ জন ফায়ার ফাইটার, ৭ জন গ্রুপ লিডার, ৩ জন ড্রাইভার, একজন সিনিয়র স্টেশন অফিসার, একজন স্টেশন অফিসার, একজন ডুবুরি এবং একজন নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট।

সর্বাধিক প্রাণহানি ঘটে ২০২২ সালের ৪ জুন সীতাকুণ্ড অগ্নিকাণ্ডে, যেখানে ১৩ জন ফায়ার সার্ভিস কর্মী মারা গেছেন। এটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর প্রতিষ্ঠার পর একবারে সবচেয়ে বড় ক্ষতি। এর আগে ২০০৮ সালে ৪ জন এবং ২০০০ সালে ৩ জন কর্মী অপারেশন চলাকালীন প্রাণ হারিয়েছিলেন।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর দেশের একটি জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে এবং জনগণের নিরাপত্তার জন্য নিবেদিত।

আগুন বা অন্য যেকোনো বিপদের সময় সাইরেনের আওয়াজে ছুটে আসা ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের জীবন প্রতিদিন ঝুঁকির মধ্যে থাকে। তাদের প্রাণের মূল্য আমরা কতটা বুঝি? দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেন আর কোনো কর্মী প্রাণ হারাতে না হয়, সেই কামনাই করি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৬:৪৮:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
৩৫৬ বার পড়া হয়েছে

গত ১০ বছরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের প্রাণহানি ২৪, আহত ৩৮৬

আপডেট সময় ০৬:৪৮:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় একটি কেমিক্যাল গোডাউনে বিস্ফোরণের পর আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের চার সদস্য দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে শামীম আহমেদ (৪০) নামের একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাঁর শরীর শতভাগ দগ্ধ হয়েছিল। এছাড়া, এক ব্যক্তির ১০০ শতাংশ এবং অন্য একের ৪২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, দুজনেরই অবস্থা গুরুতর।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত দশ বছরে অপারেশন চলাকালীন ২৩ জন ফায়ার সার্ভিস কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। টঙ্গীর এই দুর্ঘটনায় শামীমের মৃত্যু যুক্ত হয়ে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ জনে। একই সময়ে, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ৩৮৬ জন ফায়ার সার্ভিস কর্মী আহত হয়েছেন।

১৯৮১ সালের ৯ এপ্রিল ফায়ার সার্ভিস, সিভিল ডিফেন্স এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের উদ্ধার পরিদফতরের সংমিশ্রণে বর্তমান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে ৪৬ জন ফায়ার সার্ভিস কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া, ১৯৬৬, ১৯৭১ ও ১৯৭৩ সালে আরও তিনজন কর্মীর মৃত্যু ঘটেছে।

মৃত ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন ৩৫ জন ফায়ার ফাইটার, ৭ জন গ্রুপ লিডার, ৩ জন ড্রাইভার, একজন সিনিয়র স্টেশন অফিসার, একজন স্টেশন অফিসার, একজন ডুবুরি এবং একজন নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট।

সর্বাধিক প্রাণহানি ঘটে ২০২২ সালের ৪ জুন সীতাকুণ্ড অগ্নিকাণ্ডে, যেখানে ১৩ জন ফায়ার সার্ভিস কর্মী মারা গেছেন। এটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর প্রতিষ্ঠার পর একবারে সবচেয়ে বড় ক্ষতি। এর আগে ২০০৮ সালে ৪ জন এবং ২০০০ সালে ৩ জন কর্মী অপারেশন চলাকালীন প্রাণ হারিয়েছিলেন।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর দেশের একটি জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে এবং জনগণের নিরাপত্তার জন্য নিবেদিত।

আগুন বা অন্য যেকোনো বিপদের সময় সাইরেনের আওয়াজে ছুটে আসা ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের জীবন প্রতিদিন ঝুঁকির মধ্যে থাকে। তাদের প্রাণের মূল্য আমরা কতটা বুঝি? দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেন আর কোনো কর্মী প্রাণ হারাতে না হয়, সেই কামনাই করি।