ঢাকা ১০:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo অপহরণের খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর তৎপরতা, এক ঘণ্টার মধ্যেই স্কুলছাত্র উদ্ধার Logo দেড় বছর পর ফের শুরু আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা আন্তর্জাতিক বাস চলাচল Logo বাংলাদেশ পুলিশের নতুন আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন আলী হোসেন ফকির Logo চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাণ গেল দুজনের, দগ্ধ আরও সাত Logo  জনগণের শক্তিকেই মূল ভরসা করে বিএনপি, প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস নেই: মঈন খান Logo রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়োগ অনিয়ম তদন্তে হাইকোর্টের নির্দেশ Logo গরমের ঈদে আরামদায়ক পাঞ্জাবির চাহিদা, বাজারে রং-নকশায় নতুনত্ব Logo এনসিপি গঠন করল স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি Logo ভিনিসিউসকে বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগে বেনফিকার আর্জেন্টাইন ফুটবলার নিষিদ্ধ Logo ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর ১১২ নির্বাচন কর্মকর্তার বদলি

চাঁদপুরে জাহাজে ৭ খুনের বিষয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

ছবি সংগৃহীত

চাঁদপুরে জাহাজে ৭ খুনের বিষয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

চাঁদপুরের মেঘনায় বহুল আলোচিত সারবোঝাই কার্গো জাহাজে সাত খুনের ঘটনার দ্রুত সরাহা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের বড়দিনের শুভেচ্ছা জানাতে কাকরাইল গির্জা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।


মর্মান্তিক ওই ঘটনায় যারা খুন হয়েছেন তাদের সবার মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।


খুনের ঘটনায় আকাশ মণ্ডল ওরফে ইরফানকে এরই মধ্যে বাগেরহাটের চিতলমারী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জাহাজে হামলার শিকার আটজনের সঙ্গে ছিলেন ইরফান। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের মোটিভ এখনো জানা যায়নি। তবে আটক ব্যক্তি জবানবন্দী দিয়েছেন। খুব দ্রুত এই মামলার সুরাহা হবে বলে আশাবাদী তিনি।

এদিকে জাহাজের আটজনের নাম ও ঠিকানা থাকলেও তাদের সঙ্গে থাকা ইরফান সম্পর্কে আগে কোনো তথ্য জানা যাচ্ছিল না। এমন পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলেও জাহাজ থেকে কোনো কিছুই খোয়া যায়নি। তাহলে কেনো এবং কী কারণে নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো সাতজনকে? এই নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে জেলার হাইমচর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছেন এমভি আল-বাখেরা নামক কার্গো জাহাজের মালিক মাহবুব মোর্শেদ। মামলায় সংবাদদাতা অপর জাহাজ এমভি মুগনির মাস্টার বাচ্চু মিয়াসহ ৯ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
 

মামলার বাদী মাহবুব মোর্শেদ তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত রোববার (২২ ডিসেম্বর) সকাল ৮টায় চট্টগ্রামের কাফকো সার কারখানার জেটি থেকে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ির উদ্দেশে ইউরিয়া সার নিয়ে মোট ৯ জন রওয়ানা হন। সোমবার বিকেলে জাহাজটি গন্তব্যে পৌঁছার কথা ছিল। কিন্তু সোমবার সকাল থেকে জাহাজের মাস্টার মো. সালাহউদ্দিনসহ আরও কয়েকজন স্টাফকে মোবাইল ফোনে কল দিয়েও সাড়া পাননি তিনি। এ সময় তার মালিকানাধীন অপর জাহাজ এমভি মুগনি একই পথ পাড়ি দিচ্ছিল। এর মাস্টার বাচ্চু মিয়াকে খোঁজ রাখতে ফোনে জানান তিনি।

এরইমধ্যে দুপুর ১২টায় চাঁদপুরে হাইমচর উপজেলার মেঘনা নদীর পশ্চিম পাড়ে ঈশানবালা খালের মুখে সারবোঝাই এমভি আল-বাখেরাকে অবস্থান করতে দেখেন মাস্টার বাচ্চু মিয়া।

একপর্যায়ে ওই জাহাজের কাছে পৌঁছে বাচ্চু মিয়া তাতে উঠে দেখতে পান এমভি আল-বাখেরার প্রায় সব স্টাফ মৃত ও অর্ধমৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। বিষয়টি মাহবুব মোর্শেদকে জানানো হলে তিনি জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করেন।

একপর্যায়ে কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গ্রিজার ও সুকানি রুমে ৩ জনকে মৃত, ব্রিজ রুমে ৩ জনকে রক্তাক্ত এবং ড্রাইভার ও মাস্টার রুমে আরও ২ জনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এদের মধ্যে রক্তাক্ত যে ৩ জন ছিল; তারমধ্যে এখন কেবল জুয়েল নামে একজন বেঁচে আছেন। যাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যেকের মাথা, গলা ও মুখমণ্ডল রক্তাক্ত জখম ছিল। তবে ৮ জনের এমন করুণ পরিণতি হলেও ইরফান রহস্যজনক কারণে নিখোঁজ ছিলেন।

মামলা সম্পর্কে হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিউদ্দিন সুমন জানান, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা এই মামলার তদন্ত করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে চাঁদপুর সদরের হরিণাঘাট নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে।
 

অন্যদিকে চাঞ্চল্যকর ৭ খুনের ঘটনা তদন্ত করতে এরইমধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয় এবং চাঁদপুর জেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড জেলা ও নৌ-পুলিশের সমন্বয়ে আলাদাভাবে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া দাফন সম্পন্ন করার জন্য জেলা প্রশাসন ২০ হাজার এবং নৌ-পুলিশ ১০ হাজার টাকার সহায়তা দেয়। নিহতদের মধ্যে দুজনের বাড়ি ফরিদপুর, দুজনের নড়াইল, দুজনের মাগুরা এবং একজনের বাড়ি মুন্সীগঞ্জে।

এদিকে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন তাদের সহকর্মীদের হত্যায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে। এইজন্য তারা আগামী ২৬ ডিসেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। একইসঙ্গে প্রতি পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০ লাখ টাকা করে দেয়ারও দাবি জানানো হয়।
 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:৪২:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪
১৪৩ বার পড়া হয়েছে

চাঁদপুরে জাহাজে ৭ খুনের বিষয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৯:৪২:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪

চাঁদপুরে জাহাজে ৭ খুনের বিষয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

চাঁদপুরের মেঘনায় বহুল আলোচিত সারবোঝাই কার্গো জাহাজে সাত খুনের ঘটনার দ্রুত সরাহা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের বড়দিনের শুভেচ্ছা জানাতে কাকরাইল গির্জা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।


মর্মান্তিক ওই ঘটনায় যারা খুন হয়েছেন তাদের সবার মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।


খুনের ঘটনায় আকাশ মণ্ডল ওরফে ইরফানকে এরই মধ্যে বাগেরহাটের চিতলমারী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জাহাজে হামলার শিকার আটজনের সঙ্গে ছিলেন ইরফান। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের মোটিভ এখনো জানা যায়নি। তবে আটক ব্যক্তি জবানবন্দী দিয়েছেন। খুব দ্রুত এই মামলার সুরাহা হবে বলে আশাবাদী তিনি।

এদিকে জাহাজের আটজনের নাম ও ঠিকানা থাকলেও তাদের সঙ্গে থাকা ইরফান সম্পর্কে আগে কোনো তথ্য জানা যাচ্ছিল না। এমন পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলেও জাহাজ থেকে কোনো কিছুই খোয়া যায়নি। তাহলে কেনো এবং কী কারণে নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো সাতজনকে? এই নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে জেলার হাইমচর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছেন এমভি আল-বাখেরা নামক কার্গো জাহাজের মালিক মাহবুব মোর্শেদ। মামলায় সংবাদদাতা অপর জাহাজ এমভি মুগনির মাস্টার বাচ্চু মিয়াসহ ৯ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
 

মামলার বাদী মাহবুব মোর্শেদ তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত রোববার (২২ ডিসেম্বর) সকাল ৮টায় চট্টগ্রামের কাফকো সার কারখানার জেটি থেকে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ির উদ্দেশে ইউরিয়া সার নিয়ে মোট ৯ জন রওয়ানা হন। সোমবার বিকেলে জাহাজটি গন্তব্যে পৌঁছার কথা ছিল। কিন্তু সোমবার সকাল থেকে জাহাজের মাস্টার মো. সালাহউদ্দিনসহ আরও কয়েকজন স্টাফকে মোবাইল ফোনে কল দিয়েও সাড়া পাননি তিনি। এ সময় তার মালিকানাধীন অপর জাহাজ এমভি মুগনি একই পথ পাড়ি দিচ্ছিল। এর মাস্টার বাচ্চু মিয়াকে খোঁজ রাখতে ফোনে জানান তিনি।

এরইমধ্যে দুপুর ১২টায় চাঁদপুরে হাইমচর উপজেলার মেঘনা নদীর পশ্চিম পাড়ে ঈশানবালা খালের মুখে সারবোঝাই এমভি আল-বাখেরাকে অবস্থান করতে দেখেন মাস্টার বাচ্চু মিয়া।

একপর্যায়ে ওই জাহাজের কাছে পৌঁছে বাচ্চু মিয়া তাতে উঠে দেখতে পান এমভি আল-বাখেরার প্রায় সব স্টাফ মৃত ও অর্ধমৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। বিষয়টি মাহবুব মোর্শেদকে জানানো হলে তিনি জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করেন।

একপর্যায়ে কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গ্রিজার ও সুকানি রুমে ৩ জনকে মৃত, ব্রিজ রুমে ৩ জনকে রক্তাক্ত এবং ড্রাইভার ও মাস্টার রুমে আরও ২ জনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এদের মধ্যে রক্তাক্ত যে ৩ জন ছিল; তারমধ্যে এখন কেবল জুয়েল নামে একজন বেঁচে আছেন। যাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যেকের মাথা, গলা ও মুখমণ্ডল রক্তাক্ত জখম ছিল। তবে ৮ জনের এমন করুণ পরিণতি হলেও ইরফান রহস্যজনক কারণে নিখোঁজ ছিলেন।

মামলা সম্পর্কে হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিউদ্দিন সুমন জানান, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা এই মামলার তদন্ত করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে চাঁদপুর সদরের হরিণাঘাট নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে।
 

অন্যদিকে চাঞ্চল্যকর ৭ খুনের ঘটনা তদন্ত করতে এরইমধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয় এবং চাঁদপুর জেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড জেলা ও নৌ-পুলিশের সমন্বয়ে আলাদাভাবে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া দাফন সম্পন্ন করার জন্য জেলা প্রশাসন ২০ হাজার এবং নৌ-পুলিশ ১০ হাজার টাকার সহায়তা দেয়। নিহতদের মধ্যে দুজনের বাড়ি ফরিদপুর, দুজনের নড়াইল, দুজনের মাগুরা এবং একজনের বাড়ি মুন্সীগঞ্জে।

এদিকে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন তাদের সহকর্মীদের হত্যায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে। এইজন্য তারা আগামী ২৬ ডিসেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। একইসঙ্গে প্রতি পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০ লাখ টাকা করে দেয়ারও দাবি জানানো হয়।