নিয়োগ পরীক্ষার খাতা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় একটি নিয়োগ পরীক্ষার খাতা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীনসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হারুণ অর রশিদ বাদী হয়ে হরিপুর থানায় মামলাটি করেন। বিষয়টি শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে নিশ্চিত করেন হরিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হাকিম আজাদ।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বশলগাঁও এলাকার মৃত শামসুল হকের ছেলে ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীন, ভবান্দপুর এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে মোকলেসুর রহমান, তোররা এলাকার গোলাম মোস্তফার ছেলে এরফান আলী, একই এলাকার ফারুক, ভটা মোহাম্মদের ছেলে মাসুদ রানা এবং মশানগাঁও এলাকার কুদ্দুস আলীর ছেলে উজ্জ্বলসহ মোট ৯ জন। এছাড়া অজ্ঞাত আরও ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় শুক্রবার বিকেলে। ওইদিন হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র যাচাইয়ের সময় জামাল উদ্দীনসহ কয়েকজন নেতাকর্মী ইউএনওর কক্ষে প্রবেশ করে হট্টগোল সৃষ্টি করেন এবং পরীক্ষার খাতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম জানান, পরীক্ষার সব কার্যক্রম নিয়ম অনুযায়ী চলছিল। এ সময় কয়েকজন এসে তার কক্ষে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে এবং একপর্যায়ে উপস্থিত নিরীক্ষকদের কাছ থেকে পরীক্ষার কাগজপত্র নিয়ে যায়।
তবে এ বিষয়ে জামাল উদ্দীন দাবি করেন, নিয়োগ পরীক্ষায় অর্থ লেনদেনের অভিযোগ জানাতে তারা ইউএনওর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তাদের বক্তব্য আমলে না নেওয়ায় তাদের কর্মীরা কাগজপত্র নিয়ে আসে, পরে সেগুলো আবার ফেরত দেওয়া হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হারুণ অর রশিদ জানান, আয়া ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর পদে আটজন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। পরীক্ষা শেষে ইউএনওর কক্ষে বসে থাকা অবস্থায় সেখান থেকে পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে।
হরিপুর থানার ওসি মো. আব্দুল হাকিম আজাদ বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।


























