ঢাকা ১০:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo পটুয়াখালীতে বন্ধ ঘর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, রুমমেট পলাতক Logo বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থী হত্যার সন্দেহভাজন আবুঘরবেহ তিন বছর আগে মাকেও মারধর করেছিলেন Logo সংসদে নিজেকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করলেন জামায়াত নেতা তাহের Logo সাকিবের পাশাপাশি মাশরাফি ও দুর্জয়কেও আলোচনায় আনতে বললেন তামিম Logo বিএনপির প্রতি আস্থা হারাচ্ছি: সংসদে নাহিদ ইসলামের মন্তব্য Logo নিপীড়নের আশঙ্কা জানালে ভিসা নয়—যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতি Logo ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ৪ টাকা বৃদ্ধি Logo ট্রাম্পকে ‘রাজার খোঁচা’ দিলেন ব্রিটিশ চার্লস, ফরাসি ভাষা নিয়ে ব্যঙ্গ Logo ডে-কেয়ারে হাত-পা বেঁধে রাখা ৫০ শিশু, নেশাদ্রব্য প্রয়োগের অভিযোগে তোলপাড় Logo সিলেটে কোচিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে দশম শ্রেণির ছাত্রী নিখোঁজ

নির্ভয় সমাজ ও বিশ্বশান্তির আহ্বান, ছায়ানটের বর্ষবরণ আয়োজন

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

ছবি সংগৃহীত

নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে রমনার বটমূলে আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ছায়ানট এমন এক সমাজের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে, যেখানে মানুষ ভয়মুক্তভাবে কথা বলতে, গাইতে ও নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চা করতে পারে। এবারের আয়োজনের ভাবনায় ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই আদর্শ, যেখানে চিত্ত থাকবে নির্ভয় এবং জ্ঞান হবে মুক্ত।

 

ছায়ানটের সভাপতি ডা. সারওয়ার আলী বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে যুদ্ধ ও সংঘাত মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বিশ্ববাসীকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এ প্রেক্ষাপটে নববর্ষের সূচনায় সবাই বিশ্বশান্তি ও নিরাপদ সমাজের প্রত্যাশা করছে।

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংবাদকর্মীরা যেন স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারেন, শিল্পীরা যেন নির্ভয়ে গান পরিবেশন করতে পারেন এবং সংস্কৃতির প্রতিটি ধারা যেন বাধাহীনভাবে বিকশিত হয়—এটাই সবার প্রত্যাশা।

 

ডা. সারওয়ার আলী বলেন, পয়লা বৈশাখ বাঙালির সংস্কৃতি ও জাতিসত্তার অন্যতম প্রধান উৎসব। এই দিনে মানুষ পুরোনো বছরের ক্লান্তি ও দুঃখ ভুলে নতুন বছরের দিকে আশাবাদ নিয়ে এগিয়ে যায়।

 

তবে সাম্প্রতিক কিছু সহিংস ঘটনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে হামলা, বাদ্যযন্ত্র ভাঙচুর, বই নষ্ট করা এবং সংবাদপত্র অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলো উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি অতীতে বাউল শিল্পীদের ওপর হামলা এবং ২০০১ সালের বটমূলের ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

 

ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে ‘জাগো আলোক-লগনে’ গান দিয়ে শুরু হয় প্রভাতী আয়োজন। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠানে প্রায় ২০০ জন শিল্পী অংশ নেন। এতে সম্মেলক সংগীত, একক গান ও আবৃত্তিসহ মোট ২৪টি পরিবেশনা ছিল।

 

১৯৬৭ সালে শুরু হওয়া এই আয়োজন মুক্তিযুদ্ধের বছর ছাড়া প্রতি বছরই অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। করোনাকালে এটি অনলাইনে আয়োজন করা হয়েছিল। এবারও সুর ও কথার মাধ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১২:৪৭:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
২৬ বার পড়া হয়েছে

নির্ভয় সমাজ ও বিশ্বশান্তির আহ্বান, ছায়ানটের বর্ষবরণ আয়োজন

আপডেট সময় ১২:৪৭:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে রমনার বটমূলে আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ছায়ানট এমন এক সমাজের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে, যেখানে মানুষ ভয়মুক্তভাবে কথা বলতে, গাইতে ও নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চা করতে পারে। এবারের আয়োজনের ভাবনায় ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই আদর্শ, যেখানে চিত্ত থাকবে নির্ভয় এবং জ্ঞান হবে মুক্ত।

 

ছায়ানটের সভাপতি ডা. সারওয়ার আলী বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে যুদ্ধ ও সংঘাত মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বিশ্ববাসীকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এ প্রেক্ষাপটে নববর্ষের সূচনায় সবাই বিশ্বশান্তি ও নিরাপদ সমাজের প্রত্যাশা করছে।

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংবাদকর্মীরা যেন স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারেন, শিল্পীরা যেন নির্ভয়ে গান পরিবেশন করতে পারেন এবং সংস্কৃতির প্রতিটি ধারা যেন বাধাহীনভাবে বিকশিত হয়—এটাই সবার প্রত্যাশা।

 

ডা. সারওয়ার আলী বলেন, পয়লা বৈশাখ বাঙালির সংস্কৃতি ও জাতিসত্তার অন্যতম প্রধান উৎসব। এই দিনে মানুষ পুরোনো বছরের ক্লান্তি ও দুঃখ ভুলে নতুন বছরের দিকে আশাবাদ নিয়ে এগিয়ে যায়।

 

তবে সাম্প্রতিক কিছু সহিংস ঘটনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে হামলা, বাদ্যযন্ত্র ভাঙচুর, বই নষ্ট করা এবং সংবাদপত্র অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলো উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি অতীতে বাউল শিল্পীদের ওপর হামলা এবং ২০০১ সালের বটমূলের ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

 

ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে ‘জাগো আলোক-লগনে’ গান দিয়ে শুরু হয় প্রভাতী আয়োজন। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠানে প্রায় ২০০ জন শিল্পী অংশ নেন। এতে সম্মেলক সংগীত, একক গান ও আবৃত্তিসহ মোট ২৪টি পরিবেশনা ছিল।

 

১৯৬৭ সালে শুরু হওয়া এই আয়োজন মুক্তিযুদ্ধের বছর ছাড়া প্রতি বছরই অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। করোনাকালে এটি অনলাইনে আয়োজন করা হয়েছিল। এবারও সুর ও কথার মাধ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়।