ঢাকা ১২:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo রাজস্ব ঘাটতিতে চাপে সরকার, আদায় বাড়াতে জোর দিচ্ছে এনবিআর সংস্কারে Logo পদ্মায় বাস দুর্ঘটনার ৫ ঘণ্টা পরও নিখোঁজ বহু যাত্রী Logo ইরান যুদ্ধ থামার ইঙ্গিত? ১৫ দফা প্রস্তাব ঘিরে বাড়ছে জল্পনা Logo মগবাজারের ঘটনায় নিজেদের অবস্থান জানিয়ে ভিডিও প্রকাশ নবীন ফ্যাশনের Logo ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট মূল্য নিয়ে ফিফার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় সমর্থকদের মামলা Logo স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশবাসী ও প্রবাসীদের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ৪ শিক্ষানবিশ এএসপি চাকরি থেকে অপসারণ Logo নবীন ফ্যাশন দোকান বন্ধের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুলে দেওয়ার নির্দেশ, ওসিকে তলব Logo ১৩৩ অধ্যাদেশের মধ্যে ১২০টির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, বাকিগুলো নিয়ে আলোচনা ২৯ মার্চ Logo যুদ্ধবিরতিতে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইলের কাছে ইরানের পাঁচ শর্ত

রাজস্ব ঘাটতিতে চাপে সরকার, আদায় বাড়াতে জোর দিচ্ছে এনবিআর সংস্কারে

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

বর্ধিত ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে গিয়ে আর্থিক চাপে রয়েছে সরকার। বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ে পিছিয়ে পড়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), ফলে ঘাটতির পরিমাণও ক্রমশ বাড়ছে। একই সঙ্গে প্রত্যাশিত হারে বাড়েনি কর-জিডিপি অনুপাতও।
পরিস্থিতি সামাল দিতে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা চার দফায় বাড়ানো হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে নেওয়া ঋণের শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় রাজস্ব সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ফলে ঋণ পরিশোধ, পরিচালন ব্যয় মেটানো এবং বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব বাড়ানোর বিকল্প দেখছে না সরকার। এ কারণেই এনবিআরের কার্যক্রমে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
এনবিআরের সাবেক সদস্য মো. ফরিদ উদ্দিনের মতে, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজস্ব আদায়ে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি, অথচ সরকারি ব্যয় বেড়েই চলেছে। এর ফলে জাতীয় ঋণের চাপও বাড়ছে। তিনি মনে করেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এনবিআরের সংস্কার জরুরি। তার ভাষায়, দেশের অর্থনীতি থেকে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব সংগ্রহ করা সম্ভব হলেও কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
চলতি অর্থবছরে জিডিপির তুলনায় রাজস্বের অবদান ৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও সেই লক্ষ্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি আইএমএফ প্রতি বছর জিডিপির কমপক্ষে শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ হারে রাজস্ব বৃদ্ধির শর্ত দিলেও তা অর্জন করাও চ্যালেঞ্জের মুখে।
অর্থনৈতিক শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির সদস্য এম আবু ইউসুফ জানিয়েছেন, বাজেটের প্রায় ১৫ শতাংশই সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়। এ চাপ কমাতে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, দেশের কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৭ শতাংশ, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অনেক কম। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পুরো প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় (অটোমেশন) করার ওপর জোর দেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজস্ব আদায় বাড়াতে কার্যকর সংস্কার বাস্তবায়ন ছাড়া অন্য কোনো টেকসই পথ নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১২:০২:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
১ বার পড়া হয়েছে

রাজস্ব ঘাটতিতে চাপে সরকার, আদায় বাড়াতে জোর দিচ্ছে এনবিআর সংস্কারে

আপডেট সময় ১২:০২:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

বর্ধিত ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে গিয়ে আর্থিক চাপে রয়েছে সরকার। বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ে পিছিয়ে পড়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), ফলে ঘাটতির পরিমাণও ক্রমশ বাড়ছে। একই সঙ্গে প্রত্যাশিত হারে বাড়েনি কর-জিডিপি অনুপাতও।
পরিস্থিতি সামাল দিতে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা চার দফায় বাড়ানো হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে নেওয়া ঋণের শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় রাজস্ব সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ফলে ঋণ পরিশোধ, পরিচালন ব্যয় মেটানো এবং বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব বাড়ানোর বিকল্প দেখছে না সরকার। এ কারণেই এনবিআরের কার্যক্রমে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
এনবিআরের সাবেক সদস্য মো. ফরিদ উদ্দিনের মতে, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজস্ব আদায়ে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি, অথচ সরকারি ব্যয় বেড়েই চলেছে। এর ফলে জাতীয় ঋণের চাপও বাড়ছে। তিনি মনে করেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এনবিআরের সংস্কার জরুরি। তার ভাষায়, দেশের অর্থনীতি থেকে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব সংগ্রহ করা সম্ভব হলেও কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
চলতি অর্থবছরে জিডিপির তুলনায় রাজস্বের অবদান ৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও সেই লক্ষ্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি আইএমএফ প্রতি বছর জিডিপির কমপক্ষে শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ হারে রাজস্ব বৃদ্ধির শর্ত দিলেও তা অর্জন করাও চ্যালেঞ্জের মুখে।
অর্থনৈতিক শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির সদস্য এম আবু ইউসুফ জানিয়েছেন, বাজেটের প্রায় ১৫ শতাংশই সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়। এ চাপ কমাতে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, দেশের কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৭ শতাংশ, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অনেক কম। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পুরো প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় (অটোমেশন) করার ওপর জোর দেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজস্ব আদায় বাড়াতে কার্যকর সংস্কার বাস্তবায়ন ছাড়া অন্য কোনো টেকসই পথ নেই।