হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ইস্যুতে চীনের সহায়তা চাইছেন ট্রাম্প
চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত সীমিত হয়ে পড়েছে। ইরান এ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ শক্তভাবে ধরে রেখেছে এবং জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ছাড়া অন্য দেশের তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে না। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বাস্তবে এ পথ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিত্রদের পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ চীনের কাছেও সহায়তা চেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।
ট্রাম্প বলেন, শিগগিরই বেইজিং সফরের সময় চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেই বৈঠকের আগেই চীন যদি হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কোনো উদ্যোগ নেয়, তাহলে তা ইতিবাচক হবে বলে তিনি আশা করছেন।
তার মতে, চীন তাদের প্রায় ৯০ শতাংশ জ্বালানি তেল এই প্রণালি ব্যবহার করে আমদানি করে থাকে। চলতি মাসের শেষ দিকে বেইজিংয়ে সম্ভাব্য এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, এতদিন অপেক্ষা করার পরিবর্তে তিনি এর আগেই চীনের কাছ থেকে বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চান। তিনি বলেন, দুই সপ্তাহ সময় অনেক দীর্ঘ।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চীনের কাছে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান এমন সময়ে এসেছে, যখন ইরানের সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্ক বেশ ভালো। ফলে নিজেদের তেলবাহী জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে চীনের হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজন নাও হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও সতর্ক করে বলেন, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতে যদি মিত্র দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা না করে, তাহলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ সংকটের মুখে পড়তে পারে। তার ভাষায়, মিত্ররা যদি হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে সহযোগিতা না করে, তাহলে ন্যাটোর সামনে খুবই কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন এই সামরিক জোটের মিত্রদের ভূমিকাও সমালোচনা করেন।
























