রাজস্ব ঘাটতিতে চাপে সরকার, আদায় বাড়াতে জোর দিচ্ছে এনবিআর সংস্কারে
বর্ধিত ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে গিয়ে আর্থিক চাপে রয়েছে সরকার। বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ে পিছিয়ে পড়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), ফলে ঘাটতির পরিমাণও ক্রমশ বাড়ছে। একই সঙ্গে প্রত্যাশিত হারে বাড়েনি কর-জিডিপি অনুপাতও।
পরিস্থিতি সামাল দিতে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা চার দফায় বাড়ানো হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে নেওয়া ঋণের শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় রাজস্ব সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ফলে ঋণ পরিশোধ, পরিচালন ব্যয় মেটানো এবং বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব বাড়ানোর বিকল্প দেখছে না সরকার। এ কারণেই এনবিআরের কার্যক্রমে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
এনবিআরের সাবেক সদস্য মো. ফরিদ উদ্দিনের মতে, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজস্ব আদায়ে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি, অথচ সরকারি ব্যয় বেড়েই চলেছে। এর ফলে জাতীয় ঋণের চাপও বাড়ছে। তিনি মনে করেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এনবিআরের সংস্কার জরুরি। তার ভাষায়, দেশের অর্থনীতি থেকে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব সংগ্রহ করা সম্ভব হলেও কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
চলতি অর্থবছরে জিডিপির তুলনায় রাজস্বের অবদান ৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও সেই লক্ষ্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি আইএমএফ প্রতি বছর জিডিপির কমপক্ষে শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ হারে রাজস্ব বৃদ্ধির শর্ত দিলেও তা অর্জন করাও চ্যালেঞ্জের মুখে।
অর্থনৈতিক শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির সদস্য এম আবু ইউসুফ জানিয়েছেন, বাজেটের প্রায় ১৫ শতাংশই সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়। এ চাপ কমাতে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, দেশের কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৭ শতাংশ, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অনেক কম। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পুরো প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় (অটোমেশন) করার ওপর জোর দেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজস্ব আদায় বাড়াতে কার্যকর সংস্কার বাস্তবায়ন ছাড়া অন্য কোনো টেকসই পথ নেই।

























