ঢাকা ০৮:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo দুদকের তদন্তের মুখে ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান; শেখ হাসিনাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ Logo  তারেক রহমানের দেশে ফেরা প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান জানালেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা Logo  সিলেটে নিখোঁজ ছাতকের সৌরভ, খুঁজে পেতে সহযোগিতার আহ্বান Logo সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ ভবনে আগুন, অল্প সময়েই নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস Logo ইতালিতে পাঁচ লাখ কর্মী নেওয়ার উদ্যোগ: আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় কবে? Logo ঢাকায় রাশিয়ান রাষ্ট্রদূতের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা Logo খুলনা আদালত এলাকায় গুলিতে দুইজন নিহত: প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় যা উঠে এসেছে Logo ৬ লেন নির্মাণের দাবিতে সাতকানিয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ Logo কুষ্টিয়ার ছয় হত্যা মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে আজ ট্রাইব্যুনালে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণ Logo আইরিশদের হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ

১৪ বছরে বিদেশি ঋণ বেড়েছে ২৮২ শতাংশ, মেগা প্রকল্পের জন্য শোধ করতে হবে ১০০ বিলিয়নের বেশি

নিজস্ব সংবাদ :

ছবি সংগৃহীত

১৪ বছরে বিদেশি ঋণ বেড়েছে ২৮২ শতাংশ, মেগা প্রকল্পের জন্য শোধ করতে হবে ১০০ বিলিয়নের বেশি।

‘হার্ড কারেন্সি’ বলতে মূলত মার্কিন ডলারকে বোঝে বাংলাদেশ। কেননা, আন্তর্জাতিক বাজারে এই মুদ্রা সহজে বিনিময়যোগ্য। দামে ওঠানামাও কম। তাই, ডলারকে কেন্দ্র করেই বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ গড়ে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধ হয় এখান থেকেই।

রিজার্ভের অর্থে ভর করেই, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলি টানেল কিংবা এক্সপ্রেসওয়ের মতো অবকাঠামো তৈরি করেছে বিগত সরকার। আলোর মুখ দেখছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আর গভীর সমুদ্রবন্দরও। কিন্তু দেশে রাজনৈতিক পালাবদল আর এর মাঝেই কয়েকটি মেগা প্রকল্পের ঋণের কিস্তি শুরু হওয়ায়, আগের চেয়ে বেশি গুনতে হচ্ছে প্রায় ২৮ কোটি ডলার। একই সময়ে বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতি কমে গেছে ৯০ ভাগের বেশি।

বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ডেট রিপোর্ট বলছে, গত ১৪ বছরে বিদেশি ঋণ বেড়েছে প্রায় ২৮২ শতাংশ বা ৭৪ বিলিয়ন ডলার। যার সিংহভাগই দীর্ঘমেয়াদি ঋণ। গেল বছর, এসব সহায়তার সুদই ছিল প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার। আর মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নেই সরকারকে শোধ করতে হবে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

স্বল্পমেয়াদি আর দ্বিপাক্ষিক ঋণ তো আছেই। আইএমএফের নতুন ঋণের অর্থছাড় হওয়ায় এই চাপ সামনে আরও বাড়বে। আপাতত কোনো কিস্তি বাদ না পড়লেও, চাপ সামলাতে গলদঘর্ম অন্তর্বর্তী সরকার। বিশ্লেষকরা বলছেন, বেশিরভাগ বিদেশি ঋণের গ্যারান্টি দিয়েছে স্থানীয় ব্যাংক। কোনো কারণে অর্থ ফেরত দিতে দেরি হলে, চাপে পড়বে অর্থনীতি।

বিষয়টি নিয়ে ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন প্রকল্পগুলো ঠিক আছে কিনা, কারিগরি দিক ও বাস্তবায়নের সক্ষমতা দেখে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। তাদের বিশেষজ্ঞরা এসে কাজ করেন। ঋণের বিষয়ে বলেন, তাদের ব্যবসায়িক আগ্রহটা সবসময় গুরুত্ব পায়। তাদের মধ্যে একটা বিশ্বাস ছিল। সেখানে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারকে প্রমাণ করতে হবে দেশের সবকিছু ঠিক আছে। আমাদের নিয়মকানুন, কোর্ট, বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সব ঠিক আছে এটি প্রমাণ করতে হবে। কেননা, ঋণদাতা সংস্থাগুলো এসব খোঁজখবর নিয়েই ঋণ দিয়ে থাকে।

বলা হচ্ছে, জানুয়ারিতে বাজেট সংশোধন হলে স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া কমাবে বর্তমান সরকার। সেক্ষেত্রে ঘাটতি মেটাতে বিদেশি ঋণে নির্ভরতা আরও বাড়তে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৮:০৯:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪
১১০ বার পড়া হয়েছে

১৪ বছরে বিদেশি ঋণ বেড়েছে ২৮২ শতাংশ, মেগা প্রকল্পের জন্য শোধ করতে হবে ১০০ বিলিয়নের বেশি

আপডেট সময় ০৮:০৯:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪

১৪ বছরে বিদেশি ঋণ বেড়েছে ২৮২ শতাংশ, মেগা প্রকল্পের জন্য শোধ করতে হবে ১০০ বিলিয়নের বেশি।

‘হার্ড কারেন্সি’ বলতে মূলত মার্কিন ডলারকে বোঝে বাংলাদেশ। কেননা, আন্তর্জাতিক বাজারে এই মুদ্রা সহজে বিনিময়যোগ্য। দামে ওঠানামাও কম। তাই, ডলারকে কেন্দ্র করেই বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ গড়ে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধ হয় এখান থেকেই।

রিজার্ভের অর্থে ভর করেই, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলি টানেল কিংবা এক্সপ্রেসওয়ের মতো অবকাঠামো তৈরি করেছে বিগত সরকার। আলোর মুখ দেখছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আর গভীর সমুদ্রবন্দরও। কিন্তু দেশে রাজনৈতিক পালাবদল আর এর মাঝেই কয়েকটি মেগা প্রকল্পের ঋণের কিস্তি শুরু হওয়ায়, আগের চেয়ে বেশি গুনতে হচ্ছে প্রায় ২৮ কোটি ডলার। একই সময়ে বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতি কমে গেছে ৯০ ভাগের বেশি।

বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ডেট রিপোর্ট বলছে, গত ১৪ বছরে বিদেশি ঋণ বেড়েছে প্রায় ২৮২ শতাংশ বা ৭৪ বিলিয়ন ডলার। যার সিংহভাগই দীর্ঘমেয়াদি ঋণ। গেল বছর, এসব সহায়তার সুদই ছিল প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার। আর মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নেই সরকারকে শোধ করতে হবে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

স্বল্পমেয়াদি আর দ্বিপাক্ষিক ঋণ তো আছেই। আইএমএফের নতুন ঋণের অর্থছাড় হওয়ায় এই চাপ সামনে আরও বাড়বে। আপাতত কোনো কিস্তি বাদ না পড়লেও, চাপ সামলাতে গলদঘর্ম অন্তর্বর্তী সরকার। বিশ্লেষকরা বলছেন, বেশিরভাগ বিদেশি ঋণের গ্যারান্টি দিয়েছে স্থানীয় ব্যাংক। কোনো কারণে অর্থ ফেরত দিতে দেরি হলে, চাপে পড়বে অর্থনীতি।

বিষয়টি নিয়ে ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন প্রকল্পগুলো ঠিক আছে কিনা, কারিগরি দিক ও বাস্তবায়নের সক্ষমতা দেখে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। তাদের বিশেষজ্ঞরা এসে কাজ করেন। ঋণের বিষয়ে বলেন, তাদের ব্যবসায়িক আগ্রহটা সবসময় গুরুত্ব পায়। তাদের মধ্যে একটা বিশ্বাস ছিল। সেখানে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারকে প্রমাণ করতে হবে দেশের সবকিছু ঠিক আছে। আমাদের নিয়মকানুন, কোর্ট, বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সব ঠিক আছে এটি প্রমাণ করতে হবে। কেননা, ঋণদাতা সংস্থাগুলো এসব খোঁজখবর নিয়েই ঋণ দিয়ে থাকে।

বলা হচ্ছে, জানুয়ারিতে বাজেট সংশোধন হলে স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া কমাবে বর্তমান সরকার। সেক্ষেত্রে ঘাটতি মেটাতে বিদেশি ঋণে নির্ভরতা আরও বাড়তে পারে।