ঢাকা ০২:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo বৈশাখে জামায়াতের শোভাযাত্রা, দেশীয় সংস্কৃতি রক্ষার আহ্বান Logo ট্রাম্পকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও, ইরানপন্থি চ্যানেল বন্ধ করায় ইউটিউবের বিরুদ্ধে তেহরানের ক্ষোভ Logo অল্প বয়সের আবেগে নেওয়া বিয়ের সিদ্ধান্তকে ভুল বললেন অপু বিশ্বাস Logo পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইলে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo নির্ভয় সমাজ ও বিশ্বশান্তির আহ্বান, ছায়ানটের বর্ষবরণ আয়োজন Logo চারুকলা থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা, নতুন দিনের আশায় বর্ণিল আয়োজন Logo মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্যের পদত্যাগ, আইনি পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ Logo সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অপব্যবহার করছে বিএনপি : হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ Logo বকেয়া পাওনার অভিযোগ খণ্ডন, নাসুমের বিরুদ্ধেই পাল্টা অভিযোগ সিলেটের Logo রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আজ সম্পন্ন হবে সুরসম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলের শেষকৃত্য

১৪ বছরে বিদেশি ঋণ বেড়েছে ২৮২ শতাংশ, মেগা প্রকল্পের জন্য শোধ করতে হবে ১০০ বিলিয়নের বেশি

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

ছবি সংগৃহীত

১৪ বছরে বিদেশি ঋণ বেড়েছে ২৮২ শতাংশ, মেগা প্রকল্পের জন্য শোধ করতে হবে ১০০ বিলিয়নের বেশি।

‘হার্ড কারেন্সি’ বলতে মূলত মার্কিন ডলারকে বোঝে বাংলাদেশ। কেননা, আন্তর্জাতিক বাজারে এই মুদ্রা সহজে বিনিময়যোগ্য। দামে ওঠানামাও কম। তাই, ডলারকে কেন্দ্র করেই বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ গড়ে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধ হয় এখান থেকেই।

রিজার্ভের অর্থে ভর করেই, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলি টানেল কিংবা এক্সপ্রেসওয়ের মতো অবকাঠামো তৈরি করেছে বিগত সরকার। আলোর মুখ দেখছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আর গভীর সমুদ্রবন্দরও। কিন্তু দেশে রাজনৈতিক পালাবদল আর এর মাঝেই কয়েকটি মেগা প্রকল্পের ঋণের কিস্তি শুরু হওয়ায়, আগের চেয়ে বেশি গুনতে হচ্ছে প্রায় ২৮ কোটি ডলার। একই সময়ে বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতি কমে গেছে ৯০ ভাগের বেশি।

বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ডেট রিপোর্ট বলছে, গত ১৪ বছরে বিদেশি ঋণ বেড়েছে প্রায় ২৮২ শতাংশ বা ৭৪ বিলিয়ন ডলার। যার সিংহভাগই দীর্ঘমেয়াদি ঋণ। গেল বছর, এসব সহায়তার সুদই ছিল প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার। আর মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নেই সরকারকে শোধ করতে হবে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

স্বল্পমেয়াদি আর দ্বিপাক্ষিক ঋণ তো আছেই। আইএমএফের নতুন ঋণের অর্থছাড় হওয়ায় এই চাপ সামনে আরও বাড়বে। আপাতত কোনো কিস্তি বাদ না পড়লেও, চাপ সামলাতে গলদঘর্ম অন্তর্বর্তী সরকার। বিশ্লেষকরা বলছেন, বেশিরভাগ বিদেশি ঋণের গ্যারান্টি দিয়েছে স্থানীয় ব্যাংক। কোনো কারণে অর্থ ফেরত দিতে দেরি হলে, চাপে পড়বে অর্থনীতি।

বিষয়টি নিয়ে ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন প্রকল্পগুলো ঠিক আছে কিনা, কারিগরি দিক ও বাস্তবায়নের সক্ষমতা দেখে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। তাদের বিশেষজ্ঞরা এসে কাজ করেন। ঋণের বিষয়ে বলেন, তাদের ব্যবসায়িক আগ্রহটা সবসময় গুরুত্ব পায়। তাদের মধ্যে একটা বিশ্বাস ছিল। সেখানে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারকে প্রমাণ করতে হবে দেশের সবকিছু ঠিক আছে। আমাদের নিয়মকানুন, কোর্ট, বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সব ঠিক আছে এটি প্রমাণ করতে হবে। কেননা, ঋণদাতা সংস্থাগুলো এসব খোঁজখবর নিয়েই ঋণ দিয়ে থাকে।

বলা হচ্ছে, জানুয়ারিতে বাজেট সংশোধন হলে স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া কমাবে বর্তমান সরকার। সেক্ষেত্রে ঘাটতি মেটাতে বিদেশি ঋণে নির্ভরতা আরও বাড়তে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৮:০৯:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪
১৫৩ বার পড়া হয়েছে

১৪ বছরে বিদেশি ঋণ বেড়েছে ২৮২ শতাংশ, মেগা প্রকল্পের জন্য শোধ করতে হবে ১০০ বিলিয়নের বেশি

আপডেট সময় ০৮:০৯:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪

১৪ বছরে বিদেশি ঋণ বেড়েছে ২৮২ শতাংশ, মেগা প্রকল্পের জন্য শোধ করতে হবে ১০০ বিলিয়নের বেশি।

‘হার্ড কারেন্সি’ বলতে মূলত মার্কিন ডলারকে বোঝে বাংলাদেশ। কেননা, আন্তর্জাতিক বাজারে এই মুদ্রা সহজে বিনিময়যোগ্য। দামে ওঠানামাও কম। তাই, ডলারকে কেন্দ্র করেই বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ গড়ে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধ হয় এখান থেকেই।

রিজার্ভের অর্থে ভর করেই, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলি টানেল কিংবা এক্সপ্রেসওয়ের মতো অবকাঠামো তৈরি করেছে বিগত সরকার। আলোর মুখ দেখছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আর গভীর সমুদ্রবন্দরও। কিন্তু দেশে রাজনৈতিক পালাবদল আর এর মাঝেই কয়েকটি মেগা প্রকল্পের ঋণের কিস্তি শুরু হওয়ায়, আগের চেয়ে বেশি গুনতে হচ্ছে প্রায় ২৮ কোটি ডলার। একই সময়ে বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতি কমে গেছে ৯০ ভাগের বেশি।

বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ডেট রিপোর্ট বলছে, গত ১৪ বছরে বিদেশি ঋণ বেড়েছে প্রায় ২৮২ শতাংশ বা ৭৪ বিলিয়ন ডলার। যার সিংহভাগই দীর্ঘমেয়াদি ঋণ। গেল বছর, এসব সহায়তার সুদই ছিল প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার। আর মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নেই সরকারকে শোধ করতে হবে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

স্বল্পমেয়াদি আর দ্বিপাক্ষিক ঋণ তো আছেই। আইএমএফের নতুন ঋণের অর্থছাড় হওয়ায় এই চাপ সামনে আরও বাড়বে। আপাতত কোনো কিস্তি বাদ না পড়লেও, চাপ সামলাতে গলদঘর্ম অন্তর্বর্তী সরকার। বিশ্লেষকরা বলছেন, বেশিরভাগ বিদেশি ঋণের গ্যারান্টি দিয়েছে স্থানীয় ব্যাংক। কোনো কারণে অর্থ ফেরত দিতে দেরি হলে, চাপে পড়বে অর্থনীতি।

বিষয়টি নিয়ে ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন প্রকল্পগুলো ঠিক আছে কিনা, কারিগরি দিক ও বাস্তবায়নের সক্ষমতা দেখে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। তাদের বিশেষজ্ঞরা এসে কাজ করেন। ঋণের বিষয়ে বলেন, তাদের ব্যবসায়িক আগ্রহটা সবসময় গুরুত্ব পায়। তাদের মধ্যে একটা বিশ্বাস ছিল। সেখানে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারকে প্রমাণ করতে হবে দেশের সবকিছু ঠিক আছে। আমাদের নিয়মকানুন, কোর্ট, বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সব ঠিক আছে এটি প্রমাণ করতে হবে। কেননা, ঋণদাতা সংস্থাগুলো এসব খোঁজখবর নিয়েই ঋণ দিয়ে থাকে।

বলা হচ্ছে, জানুয়ারিতে বাজেট সংশোধন হলে স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া কমাবে বর্তমান সরকার। সেক্ষেত্রে ঘাটতি মেটাতে বিদেশি ঋণে নির্ভরতা আরও বাড়তে পারে।