পদ্মায় বাস দুর্ঘটনার ৫ ঘণ্টা পরও নিখোঁজ বহু যাত্রী
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে একটি যাত্রীবাহী বাস পড়ে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরও বহু যাত্রীর খোঁজ পাওয়া যায়নি। বুধবার বিকেল প্রায় ৪টা ৪৫ মিনিটে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায়।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বাসটিতে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর ৭ জন সাঁতরে উপরে উঠতে সক্ষম হলেও বাকিদের অনেকেই পানির নিচে আটকে পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, বাসটি প্রায় ৮০ ফুট গভীরে ডুবে গেছে।
রাত ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, এখনও প্রায় ৪০ জন যাত্রী নিখোঁজ থাকতে পারেন। এদিকে এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলো গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল কাজ করছে। ফরিদপুর ও রাজবাড়ী থেকে আসা সদস্যদের নিয়ে গঠিত দলটি নদীর তলদেশে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। পাশাপাশি ‘হামজা’ নামের একটি উদ্ধারকারী জাহাজ বাসটি শনাক্ত ও উত্তোলনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেছেন, উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব করেছে। তাদের দাবি, দুর্ঘটনার পর অনেক সময় পার হওয়ার পর উদ্ধার অভিযান শুরু হয়, যা ক্ষয়ক্ষতি বাড়িয়ে দিতে পারে।
বেঁচে ফেরা এক যাত্রী জানান, তিনি সাঁতরে প্রাণে বাঁচলেও তার পরিবারের সদস্যরা এখনও নিখোঁজ। এতে করে ঘটনাস্থলে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার পর অল্প কয়েকজনই নিজে থেকে বের হতে পেরেছেন বলে জানা গেছে। উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে এবং নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্টরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।


























