ঢাকা ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বকেয়া টাকা নিয়ে বিরোধ, ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ Logo ইকরার আত্মহত্যা মামলায় ১৭ মে’র মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ Logo বন্দিদের ওপর নির্যাতন নিয়ে ভয়াবহ অভিযোগ, ‘মৃত্যুই কামনা করেছিলাম’ Logo ছুটি শেষে ফটকে তালা, ওয়াশরুমে আটকে ছিল তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী Logo হামের চিকিৎসার ব্যয় বেড়ে দিশেহারা পরিবারগুলো Logo এসএসসি পরীক্ষায় আবার চালু হচ্ছে ‘নীরব বহিষ্কার’ পদ্ধতি Logo চিকিৎসার পর পুনর্বাসনের জন্য মালয়েশিয়ায় নেওয়া হলো মির্জা আব্বাসকে Logo দেবীদ্বারের সড়ক সংস্কারে জরুরি পদক্ষেপ চাইলেন এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ Logo জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ২০০ কোটি ডলার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী Logo অনলাইন ক্লাসে অনাগ্রহ, তবুও বৈশ্বিক বাস্তবতায় এগোতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

৭ জুলাই: দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বেগবান করে ‘বাংলা ব্লকেড’

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

হরতাল বা অবরোধ নয়, ২০২৪ সালের ৭ জুলাই শিক্ষার্থীরা পালন করে ‘বাংলা ব্লকেড’। সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথার সংস্কারে ৬ জুলাই ঘোষিত হয় নতুন এ কর্মসূচি। অরাজনৈতিক এ কর্মসূচিও স্বতস্ফূর্তভাবে পালিত হয় দেশজুড়ে। আন্দোলনে প্রতিনিয়ত নতুনত্ব নিয়ে আসা ও তার সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জানান দেয় দেশজুড়ে তাদের শক্ত অবস্থান।

সেদিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে কলাভবন ও ভিসি চত্বর ঘুরে শাহবাগের দিকে এগিয়ে যায় শিক্ষার্থীদের স্রোত। মিছিলটি একপর্যায়ে শাহবাগ পৌঁছালে সেখানে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে।

এক পর্যায়ে, ব্যারিকেড ভেঙেই এগিয়ে যায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। শাহবাগ ছাড়িয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হয়ে বাংলামোটর পর্যন্ত ছড়িয়ে যায় শিক্ষার্থীদের মিছিল। শাহবাগ, কারওয়ানবাজার, সায়েন্সল্যাফব, চানখারপুল, নীলক্ষেত, মতিঝিলসহ ঢাকার প্রায় সব সড়কই অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে বাংলা ব্লকেডে।

এদিন অভিভাবক, পেশাজীবী, সুশীল সমাজসহ সকলকে একাত্মতা পোষণের আহ্বান জানানো হয়।

জুলাই আন্দোলনে সমন্বয়কদের মতে, সাধারণ মানুষকে এই আন্দোলনের সাথে যুক্ত করতে কর্মসূচির চিরাচরিত নাম থেকে বের হয়ে আসেন তারা।

রাজধানী তো বটেই, এদিন বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি পালিত হয় দেশের বিভিন্ন জেলায়। ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অবরোধ হয়, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-বরিশালসহ বিভিন্ন মহাসড়ক। সবমিলিয়ে কার্যত অচল হয়ে পড়ে গোটা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা।

এদিকে, সরকারি চাকরিতে যৌক্তিক কোটা সংস্কারের দবিতে শিক্ষার্থীরা যখন রাস্তায়, তখন এক অনুষ্ঠানে তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই আন্দোলনকে রীতিমতো অযৌক্তিক হিসেবে অভিহিত করেন। বলেন, লেখাপড়া বাদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়

এদিন রাত প্রায় ৮টা পর্যন্ত শাহবাগ ব্লকেড করে রাখে শিক্ষার্থীরা। পরদিন আবারও শাহবাগ থেকে ফার্মগট পর্যন্ত ব্লকেডের ঘোষণা দিয়ে ওই দিনের মতো রাজপথ ছেড়ে যায় শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, বাংলা ব্লকেডের মধ্য দিয়েই মূলত শিক্ষার্থীরা জানান দিয়েছিল, কোটা সংস্কার ইস্যুতে ২৪ এর আন্দোলন কতটা আলাদা। এই কর্মসূচিটি আন্দোলনের স্রোতকে করে আরও বেগবান, মেলবন্ধন তৈরি করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাধারণ জনতার।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১২:০৪:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
১৪৮ বার পড়া হয়েছে

৭ জুলাই: দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বেগবান করে ‘বাংলা ব্লকেড’

আপডেট সময় ১২:০৪:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫

হরতাল বা অবরোধ নয়, ২০২৪ সালের ৭ জুলাই শিক্ষার্থীরা পালন করে ‘বাংলা ব্লকেড’। সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথার সংস্কারে ৬ জুলাই ঘোষিত হয় নতুন এ কর্মসূচি। অরাজনৈতিক এ কর্মসূচিও স্বতস্ফূর্তভাবে পালিত হয় দেশজুড়ে। আন্দোলনে প্রতিনিয়ত নতুনত্ব নিয়ে আসা ও তার সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জানান দেয় দেশজুড়ে তাদের শক্ত অবস্থান।

সেদিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে কলাভবন ও ভিসি চত্বর ঘুরে শাহবাগের দিকে এগিয়ে যায় শিক্ষার্থীদের স্রোত। মিছিলটি একপর্যায়ে শাহবাগ পৌঁছালে সেখানে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে।

এক পর্যায়ে, ব্যারিকেড ভেঙেই এগিয়ে যায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। শাহবাগ ছাড়িয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হয়ে বাংলামোটর পর্যন্ত ছড়িয়ে যায় শিক্ষার্থীদের মিছিল। শাহবাগ, কারওয়ানবাজার, সায়েন্সল্যাফব, চানখারপুল, নীলক্ষেত, মতিঝিলসহ ঢাকার প্রায় সব সড়কই অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে বাংলা ব্লকেডে।

এদিন অভিভাবক, পেশাজীবী, সুশীল সমাজসহ সকলকে একাত্মতা পোষণের আহ্বান জানানো হয়।

জুলাই আন্দোলনে সমন্বয়কদের মতে, সাধারণ মানুষকে এই আন্দোলনের সাথে যুক্ত করতে কর্মসূচির চিরাচরিত নাম থেকে বের হয়ে আসেন তারা।

রাজধানী তো বটেই, এদিন বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি পালিত হয় দেশের বিভিন্ন জেলায়। ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অবরোধ হয়, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-বরিশালসহ বিভিন্ন মহাসড়ক। সবমিলিয়ে কার্যত অচল হয়ে পড়ে গোটা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা।

এদিকে, সরকারি চাকরিতে যৌক্তিক কোটা সংস্কারের দবিতে শিক্ষার্থীরা যখন রাস্তায়, তখন এক অনুষ্ঠানে তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই আন্দোলনকে রীতিমতো অযৌক্তিক হিসেবে অভিহিত করেন। বলেন, লেখাপড়া বাদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়

এদিন রাত প্রায় ৮টা পর্যন্ত শাহবাগ ব্লকেড করে রাখে শিক্ষার্থীরা। পরদিন আবারও শাহবাগ থেকে ফার্মগট পর্যন্ত ব্লকেডের ঘোষণা দিয়ে ওই দিনের মতো রাজপথ ছেড়ে যায় শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, বাংলা ব্লকেডের মধ্য দিয়েই মূলত শিক্ষার্থীরা জানান দিয়েছিল, কোটা সংস্কার ইস্যুতে ২৪ এর আন্দোলন কতটা আলাদা। এই কর্মসূচিটি আন্দোলনের স্রোতকে করে আরও বেগবান, মেলবন্ধন তৈরি করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাধারণ জনতার।